আমাদের জীবনে শক্তির প্রভাব ও এর সাশ্রয়ী ব্যবহার (পাঠ ১৩)

সপ্তম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বিজ্ঞান - শক্তির ব্যবহার | NCTB BOOK
661
Summary

বাংলাদেশে জনসংখ্যা প্রায় ষোল কোটি, এবং রান্নাবান্নার জন্য প্রচুর জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে, যার অধিকাংশই কাঠ ও খড়কুটার মতো প্রচলিত উৎস। এই উৎসের ব্যবহার বনজসম্পদ, মাটি উর্বরতা এবং পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে, আগামী দিনে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

শক্তির চাহিদা আমাদের জীবনে অপরিহার্য, এবং জীবাশ্ম জ্বালানি সীমিত হওয়ায় বিকল্প শক্তির উৎস খোঁজা জরুরি। নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, শক্তির অপব্যবহার রোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

শক্তি সংরক্ষণের জন্য নিচের পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে:

  • শক্তিকে সমষ্টিগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা
  • অপ্রয়োজনীয় সময়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা
  • ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বা যন্ত্রপাতির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ
  • অপ্রয়োজনে যানবাহনের ইঞ্জিন বন্ধ রাখা

শক্তির অপচয় রোধ করা আমাদের দায়িত্ব, এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

প্রায় ষোল কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত আমাদের বাংলাদেশ। প্রতিবছর রান্নাবান্নার কাজে প্রচুর জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর অধিকাংশ হলো কাঠ, খড়কুটা, নাড়া, শুকনো গোবর, ইত্যাদি। প্রচলিত জ্বালানি হিসেবে এগুলো ব্যবহারের ফলে দেশের বনজসম্পদ কমছে, মাটি উর্বরতা হারাচ্ছে এবং পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি। ফলে আগামী দিনে বর্ধিত জনসংখ্যার জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলার বিষয় আমাদেরকে অবশ্যই ভাবতে হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা শক্তির ব্যবহার করছি। আমাদের বাঁচার জন্য যেমন শক্তির প্রয়োজন, তেমনি জীবনমান উন্নয়নের জন্যও শক্তির প্রয়োজন। শক্তি না হলে আমাদের জীবন চলে না। তাই শক্তি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমরা দেখেছি যে, জীবাশ্ম জ্বালানি আমাদের শক্তির এক বিরাট উৎস। কিন্তু এ শক্তি সীমিত এবং এক সময়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাই মানুষ শক্তির বিকল্প উৎসের সন্ধানে সচেষ্ট। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস কিছুটা সম্ভাবনাময় বলে মনে হচ্ছে। যেহেতু অফুরন্ত শক্তির কোনো উৎস পাওয়ার সম্ভাবনা নাই তাই প্রাপ্ত শক্তি ব্যবহারে আমাদের অবশ্যই সচেতন ও মিতব্যয়ী হতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে শক্তির অপব্যবহার বা অপচয় রোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শক্তির সংরক্ষণ আমাদের ব্যক্তিগত খরচ কমায়। এ জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:

  • শক্তিকে ব্যক্তিগত সম্পদ না ভেবে সমষ্টিগত সম্পদ বিবেচনা করার মানসিকতা সৃষ্টি।
  • রেডিয়ো, টিভি, বাতি, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র প্রভৃতি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করে অন্য সময় বন্ধ রাখা।
  • ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বা যন্ত্রপাতি বেশি শক্তি ব্যয় করে। এ জন্য এ সকল সরঞ্জামাদির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকর রাখা অপরিহার্য।
  • বিনা কারণে অথবা অপ্রয়োজনে যানবাহনের ইঞ্জিন চালু না রাখা।

নতুন শব্দ:
কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি, সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, শক্তির রূপান্তর, নবায়নযোগ্য শক্তি, অনবায়নযোগ্য শক্তি, বায়োগ্যাস, শক্তির সংকট ও বিকল্প শক্তির উৎস।

এ অধ্যায়ে আমরা যা শিখলাম

  • কাজ করার সামর্থই হলে শক্তি।
  • আমাদের চারপাশে রয়েছে শক্তির বিভিন্ন উৎস।
  • শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নেই, শক্তি কেবল এক রূপ থেকে অপর এক বা একাধিক রূপে পরিবর্তিত হতে পারে।
  • নবায়নযোগ্য শক্তির প্রয়োজনীয়তা যেমন আমাদের দেশে অনস্বীকার্য, তেমনি এর প্রাপ্যতা অনেকটা সহজ।
  • দিন দিন বেড়েই চলছে শক্তির ব্যবহার, ফলে তৈরি হচ্ছে শক্তির সংকট।
  • দৈনন্দিন জীবনে শক্তির অপব্যবহার বা অপচয় রোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...